দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ভারত বনধ
দি নিউজ লায়ন ; কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ভারতজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে আন্দোলনরত কৃষকদের ডাকে ১২ ঘন্টার ভারত বনধ। কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবিতেই এই বনধ। সাধারণ মানুষের সমস্যা তৈরি না করেই এই বনধ পালিত হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কিষান সংগঠন। সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ৩ টে পর্যন্ত ভারত জুড়ে চলভে চাক্কা জ্যাম।
ভারতের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। তবে এদিন বনধ চলাকালীন সময়ে কোনও রাজনৈতিক দলকে মঞ্চে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন কৃষকরা।
এদিন সকাল থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বনধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এদিন সাত সকালেই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে রেল অবরোধ। লখনউ এর গ্রামীন এলাকায় বনধ ঘিরে আশান্তি রুখতে ১৪৪ ধারা লাগু করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বনধের সমর্থনে মিছিল সংগঠিত হয়। বহু স্থানে দোকান পাট এবং বাজার ঘাট খোলেনি। পশ্চিমবগের বাকুড়া সহ একাধিক জেলাতে বেসরকারি বাস রাস্তায় নামেনি। শহর কলকাতাতেও বেসরকারি বাসের সংখ্যা রাস্তায় কম। তবে রাজধানী দিল্লিতে বনধের ব্যাপক প্রভাব সকাল থেকে লক্ষ্য করা গিয়েছে। বনধের জেরে রাজধান্নী দিল্লিতে ব্যাংক পরিষেবা বিঘ্নিত ঘটেছে বলে খবর। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা নগন্য। দীকানপাট সেভাবে খোলেনি। তবে সকাল পর্যন্ত বনধ ঘিরে বড়ো কোন ও অশান্তির খবর মেলেনি।
ভারতে প্রায় তিন মাস ধরে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন কৃষকরা। প্রথমে পাঞ্জাব রাজ্যে এই আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিলো। পরে সেই আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। বর্তমানে দিল্লি-পাঞ্জাব এবং দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষকরা। পাশাপাশি, উত্তরাখন্ড এবং উত্তরপ্রদেশ থেকেও দলে দলে কৃষক ওই বিক্ষোভ অবস্থানে এসে যোগ দিয়েছেন। কৃষকদের এই বিক্ষোভ ঠেকাতে শুরু থেকে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যাবহার করেও সামলাতে পারেনি।
এর আগেও ভারতে আন্দোলরত কৃষকদের সমর্থনে বাম সংগঠনগুলির ডাকে ভারত বনধ পালিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সংসদে সংখ্যার জোরে এই বিলের বিষয়ে তর্ক বিতর্ক ছাড়াই বিতর্কিত কৃষি বিল পাশ করিয়ে নেয় মোদি সরকার। তারপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা আইনে পরিণত হয়ে যায়। মূলত তিনটি আইন নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন কৃষকরা। যারমধ্যে হলো, সংশোধিত অত্যাবশ্যক পণ্য আইন। কৃষকদের ক্ষমতায়ন, ন্যায্য মূল্যের আশ্বাস এবং খামার পরিষেবা চুক্তির আইন এবং বাজার বা মান্ডির বাইরে যে কোনও ব্যাবসায়ী বা কর্পোরেট সংস্থার কাছে কৃষকদের ফল বিক্রি করার অধিকার। এই আইনে নূন্যতম সহায়ক মূল্যের কথা নেই বলে দুঃশ্চিন্তায় ভারতের কৃষকরা।
তাদের আশঙ্কা, প্রথমেই বেশী দাম হেঁকে তাদের প্রলোভিত করতে পারে বরো বড়ো সংস্থাগুলি। নূন্যতম সহায়ক মূল্যের বালাই না থাকায় ফসল কেনার ক্ষেত্রে সরকার গড়িমসি করতে পারে। ঠিক মতো অর্থ পাওয়া না গেলে মান্ডিতে যাওয়ার উতসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন কৃষকরা। সে ক্ষেত্রে সমস্ত কৃষি পণ্যের একমাত্র ক্রেতা হতে হবে বড়ো বড়ো সংস্থাগুলিকে। বাধ্য হয়ে তাই তাদের ঠিক করে দেওয়া দামেই ফসল বিক্রি করতে হবে কৃষকদের।

Post a Comment